Friday, 1 May 2020

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার 'দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী' কৃষক লীগের নেতা জজ আলী বিশ্বাস: সন্ত্রাসী বাহিনী, চাঁদাবাজি এবং হত্যা মামলায় অভিযুক্ত

ছবি:১.জজ আলী বিশ্বাস ও তার মেয়ে এবং তার ছোটো ছেলে মনির বিশ্বাস ব্যাগে হাত বোমা বহন করছেন। ( 11 March 2020)
 ছবি:২.অগ্নি অস্ত্র হাতে জজ আলী বিশ্বাস এর বড় ছেলে ফিরোজ বিশ্বাস ( 11 March 2020)

ছবি: ৩.অত্যাধুনিক অগ্নি অস্ত্র  হাতে জজ আলী বিশ্বাস এর ক্যাডার বাহিনীর প্রাধান নুরুল্লা মন্ডল (11 March 2020)


★ রাজবাড়ী |জেলা প্রতিনিধি 

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় কৃষক লীগের নেতা, জজ আলী বিশ্বাস, বর্তমানে একজন পরিচিত সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকায় ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। একাধিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এই ব্যক্তি তার সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে, এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে জোরালো আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকা অন্যতম।

জানা যায়, তিনি এবং তার ছেলে, এক শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছেন, যা এলাকায় নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। তার বাহিনী স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে এবং কোনও বাধা পেলেই ভয়াবহ আক্রমণ করে থাকে। পাশাপাশি, তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতায় জড়িত প্রতিপক্ষদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালিয়ে যান, যা স্থানীয় জনগণের কাছে বেশ অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

জজ আলী বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনার মধ্যে, যার মধ্যে ২০২০ সালের ১১ মার্চ ঘটে যাওয়া একটি খুনের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই দিন রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নে আসাদুল খান (৪২), একজন মাদরাসা শিক্ষক, নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত জজ আলী বিশ্বাসের নাম চলে আসে।

ঘটনার বিস্তারিত অনুসারে, ২০২০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিজয়ী চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান এবং পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জজ আলী বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে, ১১ মার্চ রাতে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলশ্রুতিতে, আসাদুল খান ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এ ঘটনায় আরও দু’জন আহত হন, যাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত আসাদুল খান, স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার পরিবার ছিল ওই এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বচ্ছ পরিচিত।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অবশ্য ঘটনা তদন্তে নেমে যায়, কিন্তু জজ আলী বিশ্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতার কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তার বাহিনী পুলিশ এবং প্রশাসনের উপরও শক্তিশালী প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে, যার ফলে, অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জজ আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বাহিনী এলাকায় ভয়াবহ চাঁদাবাজি, একাধিক হত্যাকাণ্ড, এবং ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক অপরাধে জড়িত। স্থানীয় জনগণ জানাচ্ছেন, সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকির কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পান না, ফলে স্থানীয় সমাজে এক অদৃশ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়া উচিত। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, স্থানীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিদেরও এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একযোগে উদ্যোগী হয়ে কাজ করা দরকার।

এছাড়া, স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে যাতে দ্রুত জজ আলী বিশ্বাসসহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.